মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় - AjkerStatus

মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায়
মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায়
মানসিক রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। মানসিক রোগীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব এবং সচেতনতার অভাবে এর চিকিৎসাসেবা থেকে মানসিক রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে। manosik rog theke muktir upay. এখানে মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তির ১০ টি টিপস পাবেন যা আপনার জীবন সুন্দর করতে পারে।

আপনার কি মাঝে মাঝে মারা যেতে ইচ্ছে করে? আপনি কি অনবরত কোন কারণ ছাড়াই কেঁদে যান? কোন কাজ করতে কোন আগ্রহ বোধ করেন না? কথায় কথায় রেগে যাচ্ছেন? নিজেকে একা একা মনে হচ্ছে? আপনি ইতিমধ্যেই ভাবছেন যে আপনি ভয়ঙ্কর বিষণ্নতার মধ্যে আছেন। যাকে ডিপ্রেশন বলে। কিন্তু আসলেই কি?

মানসিক রোগ হলো মস্তিষ্কের এক ধরনের রোগ। এ ধরনের অসুস্থতায় মানুষের আচার আচরণ কথা-বার্তা চিন্তা-ভাবনা অস্বাভাবিক হয়ে যায়। আপনি যদি মানষিক রোগ থেকে মুক্তি পেতে চান তাহলে নিচে দেওয়া ১০ টি টিপস অনুসরণ করুন।


মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায়

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বেশি শোনা কথা হচ্ছে, 'ডিপ্রেশনে আছি' কিংবা 'মরে যেতে ইচ্ছে করে'। এই 'ভালো লাগে না' রোগ মানসিক চাপের কারণে আপনাকে অনবরত খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নিঃশেষ করে দিতে পারে। দুঃখের বিষয়, একবিংশ শতাব্দীতে এসেও অনেকেই মানসিক রোগকে ন্যাকামি বা অভিনয় বলে থাকেন। অনেকে মানসিক রোগীকে উদ্দেশ্য করে এটাও বলেন, 'তোমার তো সব আছে, তাও কিসের এত মানসিক চাপ?'

তাদের এতটুকু অন্তত বোঝা উচিত যে মানসিক রোগ হওয়ার জন্য বস্তুগত জিনিসের অভাব থাকতে হয় না, এক সেরোটনিনের অভাবই যথেষ্ট!

আপনি যদি কাজ কর্ম, পড়াশোনা কিংবা সাংসারিক ব্যস্ততায় মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে থাকেন, তাহলে এই ১০ টি টিপস পড়ুন, অবশ্যই উপকার পাবেনঃ

১. মন ভরে হাসুন

হাসির চেয়ে বড় থেরাপি আর কিছু হতে পারে না! প্রাণ খুলে হাসলে হার্টের ব্লাড রেট বাড়ে, রক্ত সংবহনতন্ত্র সুস্থ থাকে। সবসময় গম্ভীর থাকার চেয়ে মন ভরে হাসলে ২০% বেশি ক্যালরি পড়ানো যায়। 
হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন। ২০০৫ সালে এক গবেষণায় প্রাপ্তবয়স্ক কিছু মানুষকে নিয়মিত গম্ভীর এবং তুলনামূলক হাস্যকর মুভি দেখানো হয়। এতে তারা এই সিদ্ধান্তে আসেন যে যারা প্রাণ খুলে হাসে তারা মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকে। 

২. নিজেকে ক্রিয়েটিভ কাজে ব্যস্ত রাখুন

'অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা' দেখা যায় রাতে ঘুম না আসলে মাথায় হাবিজাবি চিন্তা ঘুরে। এর কারণ আপনি কোন কাজ করছেন না এজন্য ব্রেন অন্যকিছু ভাবছে। তাই নিজেকে কাজের মধ্যে রাখলে মানসিক চাপ থাকবে না। তবে অবশ্যই সেটা ক্রিয়েটিভ অর্থাৎ সৃজনশীল কাজ হতে হবে। 

নিজের শখ নির্বাচন করুন। আর্ট করুন, বই পড়ুন কিংবা গান শুনুন। বাগান করলে সবচেয়ে ভালো হয়। গাছপালার সবুজ মনের প্রশান্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

৩. ক্যাফেইনকে নেশা হতে দিবেন না

হিংস্র সিংহের মুখে পড়লে ক্যাফেইন বা কফি খেলে তেজ পাবেন (যদিও ওরকম অবস্থায় তা মাথায় আসবে কিনা সন্দেহ!) সে যাইহোক, আপনি তো এখন সিংহের সামনে যাচ্ছেন না! কফি চা খাওয়া কমিয়ে দিন। এর তীব্র ট্যানিন মানসিক চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে। 

৪. বন্ধুদের কাছে টেনে নিন

বন্ধুরাই আপনার জীবনের কালো মেঘ সরিয়ে সুন্দর স্বপ্ন দেখাতে পারে। সময় পেলে কারো বাসায় চলে যান, টুকটাক হাসি ঠাট্টা করে সময় কাটান কিংবা কোথাও ঘুরতে যান। তবে অবশ্যই পজিটিভ চিন্তাধারার বন্ধু হতে হবে।

পরিবারের সাথে বেশ কিছু সময় কাটালে মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকা যায়। নিয়মিত গোসল করুন, ঘর পরিস্কার করুন, কাপড়চোপড় নিজে ধুবেন, রান্নায় সাহায্য করবেন, বাড়ির যেকোনো কাজে একে অপরকে সাহায্য করবেন। এগুলো আপনার দিনকে অর্থ পূর্ণ করতে পারে।

৫. রাগ ক্ষোভ ঝেড়ে ফেলুন

মানুষ যদি অতিরিক্ত মানসিক চাপ এ থাকে তবে অনেকক্ষেত্রে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে রাগের মাধ্যমে যা মানসিক রোগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। চাপা ক্রোধ বা ক্ষোভ ধীরে ধীরে শরীর অসুস্থও করে ফেলতে পারে। রাগের ফলে কাছের মানুষের দূরত্ব তৈরি হয়, নিজের প্রতি অন্যদের সম্মানবোধ চলে যায়। এমন বিরূপ অবস্থা মানসিক রোগকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই কারও ওপর ক্ষোভ না পুষে ক্ষমা করা শিখুন।

"ক্ষমাই সবচেয়ে বড় মহত্ত্ব"

৬. সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত ঘুম

পর্যাপ্ত ঘুম যেকোনো রোগ সারানোর চাবিকাঠি। দৈনিক আট ঘণ্টা ঘুম তাই বিদায় করে দিতে পারে সকল মানসিক রোগ।

৭. সবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করুন

শুধু বন্ধুর সাথে যোগাযোগ রাখলেই হবে না, অফিসের কলিগ কিংবা ক্লাসের সহপাঠীদের সাথেও ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে। মনে রাখবেন, মানুষ সামাজিক জীব। সমাজ ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। তাই নিজেকে আত্মকেন্দ্রিক করে যদি মানসিক শান্তি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেন তবে তা হবে খড়ের গাদায় সূঁচ খোঁজার মতোই জটিল। 

৮. ওভারথিংকিং কে 'না' বলুন

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বেশি শোনা মানসিক রোগ হলো 'ওভারথিংকিং' অর্থাৎ কোন কিছু নিয়ে বেশি চিন্তা করার প্রবণতা। যেকোনো নরমাল বিষয় নিয়েই পাগলের মতো চিন্তা করা। সমস্যার কথা হলো, অনেকেই একে মানসিক রোগ বা মানসিক সমস্যা হিসেবে ভাবে না। 

ভেবে দেখুন, ক্ষুদ্র সমস্যা থেকেই কিন্তু বড় সমস্যার উৎপত্তি। ওভারথিংকিং করতে করতে দেখবেন মানসিক চাপ বাড়িয়ে ফেলছেন।

কোন কিছু নিয়ে যদি খুব চিন্তা হয় তাহলে জাস্ট একটা লাইন মনে করবেন, 'Worrying is like paying a debt that you don't owe' অর্থাৎ চিন্তা করা এমনই এক ঋণ যার জন্য আপনি ঋণী না। 

৯. স্বাস্থ্যকর খাবার খান 

'সুষম খাদ্য শারিরীক সুস্থতার প্রধান শর্ত'। কথাটি মানসিক সুস্থতার বেলায়ও খাটে। বাদাম ও বিচি যুক্ত খাবার যেমন- চিনাবাদাম, কাজুবাদাম, শিম ইত্যাদি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া দুধ, ডিম, ওমেগা 3 ফ্যাটি এসিড যুক্ত খাবার যেমন- তেলযুক্ত মাছ খাবেন।

১০. মেডিটেশন কিংবা ব্যায়াম করুন

চুপচাপ ১০-১৫ মিনিট সময় ধ্যান বা মেডিটেশন করলে মনযোগ বৃদ্ধি, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি, IQ লেভেল বৃদ্ধি হতে পারে যা আপনার মানসিক রোগ থেকে মুক্তির বেস্ট অপশন হবে! গবেষণায় দেখা গেছে, মেডিটেশন  বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩১% কমিয়ে দিতে পারে। 

জগিং করে হাঁটা, সাইক্লিং, পুশআপ এসব সহজ ব্যায়াম করে আপনি মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। একদিন এ দুটো ট্রাই করেই দেখুন! দেখবেন মেজাজ ফুরফুরে হয়ে গেছে। 

আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট -
হয়ে গেল তো জানা! আপনার আশেপাশে যদি মানসিক রোগ এ আক্রান্ত মানুষ থাকে, তাকে অবহেলা না করে সহানুভূতিশীল হন। সম্ভব হলে তাকে সঠিক চিকিৎসার আওতায় আনুন। জীবন তো একটাই। নিজের জীবন নিজের গড়ে নিতে হয় ঠিকই, কিন্তু আশেপাশের মানুষের সহযোগিতায় জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে নিতে হয়। একজীবনে একজন মানুষ আনন্দ নিয়ে বাঁচবেন না, তা কি হয়?

চলুন আমরা এক নজরে দেখে আসি মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় গুলো। মানসিক চাপ থেকে মুক্তির ১০ টি টিপসঃ
  1. মন ভরে হাসুন
  2. নিজেকে ক্রিয়েটিভ কাজে ব্যস্ত রাখুন
  3. বন্ধুদের কাছে টেনে নিন
  4. ক্যাফেইন কে নেশা হতে দিবেন না
  5. রাগ ক্ষোভ ঝেড়ে ফেলুন
  6. মেডিটেশন কিংবা ব্যায়াম 
  7. সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত ঘুম
  8. সবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করুন
  9. ওভারথিংকিং কে 'না' বলুন
  10. স্বাস্থ্যকর খাবার খান

আমরা আশা করি, মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় পোস্টটি আপনার মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করবে।
Previous Post Next Post